ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় কীভাবে কেন্দ্রীয় চরিত্রে উঠে এলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির—এই বিষয়টি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। উড়োজাহাজ থেকে নামার পর তাঁকে উষ্ণ আলিঙ্গনে স্বাগত জানান আব্বাস আরাগচি, যা তার মধ্যস্থতাকারী ভূমিকাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও আলোচনা এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের এই সামরিক প্রধান তেহরানে গুরুত্বপূর্ণ সফরে যান। এর আগে জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদ ত্যাগ করার পর দুই দেশের আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্ত এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই সংকটের মধ্যেই আসিম মুনির দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা ও বার্তা আদান–প্রদানের কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে উঠে আসেন। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি এমন একজন সামরিক নেতা যিনি সরাসরি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে সক্ষম।
পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোদি বলেন, এই পুরো প্রক্রিয়ায় আসিম মুনিরই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে মধ্যস্থতা সফল হওয়া কঠিন হতো। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অবিনাশ পালিওয়াল মনে করেন, পাকিস্তানের ব্যক্তিকেন্দ্রিক সামরিক কাঠামোই দেশটিকে এই ধরনের মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে এনেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত দেড় বছরে আসিম মুনির শুধু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে নিজেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। ওয়াশিংটন, রিয়াদ ও তেহরানের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ এবং বিভিন্ন চুক্তিতে সম্পৃক্ততা তাঁকে আরও প্রভাবশালী করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ভবিষ্যৎ যেমন অনিশ্চিত, তেমনি আসিম মুনিরের এই ভূমিকাও পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থানকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ার সফলতা বা ব্যর্থতা শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বরং পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক প্রভাবের ওপরও বড় প্রভাব ফেলবে।
