ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: তেলের দাম বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারে প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল আক্রমণ করতে পারে এমন শঙ্কায় তেহরান সতর্কবার্তা দিয়েছে। এ খবরের পর আজ সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলমান।
আজ সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ১১৬.১০ ডলার প্রতি ব্যারেল। একই সময়ে দাম বেড়েছে ৩.১৪ শতাংশ। ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও বেড়ে হয়েছে ১০২.৩০ ডলার, যা ২.৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি। (উৎস: oileprice.com)
গতকাল ইরানের সংসদের স্পিকার জানান, দেশটির সেনারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অপেক্ষা করছে’। এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প জানান, আলোচনার মাধ্যমে ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
হুতিরা ও নৌপথের ঝুঁকি:
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল চলমান যুদ্ধে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা জড়িত হয়েছে। তারা ইসরায়েলের ওপর হামলা চালিয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে তেল পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপর হুতিদের প্রভাব রয়েছে। তারা চাইলে এই নৌপথ বন্ধ করতে পারে। (উৎস: CNN)
আন্তর্জাতিক উদ্যোগ:
যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উদ্যোগী হয়েছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, গতকালের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় পাকিস্তান সহযোগিতা করবে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের প্রভাব:
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তেল-গ্যাস স্থাপনায় হামলার কারণে গ্যাসের দামও বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল গড় প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছে ৩.৯৮ ডলার।
এই পরিস্থিতিতে এশিয়ার ছোট দেশগুলো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ এ অঞ্চলে তেল পরিবহন হয়। তবে তেলের মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করবে। র্যাপিডান এনার্জির প্রেসিডেন্ট বব ম্যাকন্যালি বলেন, পরিস্থিতি মন্দার দিকে যেতে পারে; এমন কিছু ঘটলে তেলের চাহিদা কমবে।
বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য:
যুদ্ধ শেষ হলেও গ্যাসের দাম দ্রুত কমবে না। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু ও অবকাঠামোর মেরামতের উপর নির্ভর করবে। উদাহরণ হিসেবে কাতারের রাস লাফান গ্যাসক্ষেত্রের কথা বলা হয়েছে, যা মার্চে ইরানের হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
বাজারে প্রভাব:
আজ এশিয়ার শেয়ারবাজারে সূচক পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে। জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক প্রায় ৪.৫ শতাংশ কমেছে; দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ। (উৎস: BBC)
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার আগের দিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার। ১৮ মার্চ তা বেড়ে ১১৯.৫০ ডলার পর্যন্ত উঠে, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ। অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম সর্বোচ্চ ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
