You are currently viewing হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতেই জাহাজ চলাচলে কী পরিবর্তন, ট্রাফিক তথ্য বিশ্লেষণ

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতেই জাহাজ চলাচলে কী পরিবর্তন, ট্রাফিক তথ্য বিশ্লেষণ

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে একটি জাহাজবহর বের হওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তারা সফল হয়নি বলে শিপিং ট্রাফিক তথ্য বিশ্লেষণে জানা গেছে। ইরান হরমুজ প্রণালি সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়েছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতির সময় এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে এবং শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।

মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রায় ২০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হয়েছিল। তবে কিছু সময়ের মধ্যেই জাহাজগুলো থেমে যায় এবং কয়েকটি আবার ফিরে যায়। ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনার পর এটি ছিল সবচেয়ে বড় জাহাজবহর, যারা প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করেছিল।

জাহাজগুলো হঠাৎ কেন থেমে গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই বহরে ফরাসি কোম্পানি সিএমএ সিজিএম পরিচালিত কয়েকটি কনটেইনার জাহাজও ছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, মধ্যরাত পর্যন্ত অধিকাংশ জাহাজ ফিরে গেলেও কিছু তেলবাহী ট্যাংকার আবার প্রণালির দিকে অগ্রসর হতে দেখা গেছে। শিপিং কোম্পানিগুলো ইরানের ঘোষণাকে সতর্কভাবে স্বাগত জানিয়েছে, তবে তারা বলছে নিরাপত্তা ঝুঁকি—বিশেষ করে সমুদ্র মাইন—নিয়ে আরও স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন।

এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন জাহাজসহ সব বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে, তবে ইরানের আইআরজিসির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে এবং নির্ধারিত নিরাপদ নৌপথ অনুসরণ করতে হবে। সামরিক জাহাজের প্রবেশ এখনো নিষিদ্ধ রয়েছে।

জাতিসংঘের শিপিং সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা তারা পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিরাপদ ও অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত হচ্ছে কি না তা যাচাই করছে।

এদিকে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়ে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের বন্দর অবরোধের চেষ্টা করে, তাহলে প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং খাতে এখনো অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

Leave a Reply