কুষ্টিয়ায় এয়ারগান নিয়ে পাখিশিকার ঘিরে বিতর্ক, শিক্ষকের সঙ্গে তরুণের বাগ্বিতণ্ডা
কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় সড়কে এয়ারগান হাতে হাঁটার সময় এক পাখিশিকারির সঙ্গে স্থানীয় এক তরুণের বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এয়ারগান বহনকারী ব্যক্তি শাহজাহান আলী (৪৮)। তিনি সদর উপজেলার স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। অপরদিকে ওই তরুণ নিজেকে এলাকার একটি মসজিদের ইমাম বলে পরিচয় দিয়েছেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
সোমবার সকালে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ জামান প্রথম আলোকে জানান, ঘটনাটি সত্য। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনে এয়ারগান ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ায় অস্ত্রটি জব্দ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভিডিওতে যা দেখা গেছে
প্রায় দুই মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, শীতের পোশাক পরা শাহজাহান আলী হাতে এয়ারগান নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে দু–তিনটি শিশুও ছিল। এ সময় এক তরুণ তাঁর কাছে এসে পাখি শিকার নিয়ে প্রশ্ন তুললে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
ওই তরুণ শাহজাহান আলীকে প্রশ্ন করেন, কেন তিনি পাখি মারছেন। জবাবে শিক্ষক বলেন, তিনি পাখি মারছেন না, কেবল ভয় দেখাচ্ছেন। নিজেকে হাইস্কুলের শিক্ষক পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, অন্যায় বা বেআইনি কিছু করছেন না।
তবে তরুণটি বারবার বলেন, এই এলাকায় কোনোভাবেই পাখি শিকার করা যাবে না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষকের ব্যাগ দেখতে চান এবং বলেন, ‘আপনার সন্তানকে যদি কেউ গুলি করে, তখন আপনি কী করবেন? আপনি কোনোভাবেই পাখি মারতে পারেন না।’
তর্ক চলাকালে শাহজাহান আলী দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। ভিডিওতে তরুণটি নিজেকে ইমাম পরিচয় দিয়ে প্রশ্ন তোলেন, একজন শিক্ষক হয়েও কীভাবে কেউ পাখি শিকারে জড়াতে পারেন। তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রশাসন ও বিদ্যালয়ের বক্তব্য
স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, ভিডিওটি দেখার পর বিদ্যালয়ের সভাপতির মাধ্যমে ইউএনওকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এরপর প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে ডেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ করার নির্দেশ দেন ইউএনও।
অভিযুক্ত শিক্ষকের দাবি
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহজাহান আলী। তিনি বলেন, ভিডিওটি গত শুক্রবারের। তাঁর আড়াই বিঘা জমির ওপর একটি পুকুর রয়েছে। সেখানে বক এসে মাছ নিয়ে যাওয়ায় সেগুলো তাড়ানোর জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে এয়ারগান ব্যবহার করে আসছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, এয়ারগানটি তিনি পৈতৃক সূত্রে পেয়েছেন এবং তাঁর বাবা জীবিত থাকাকালে সেটি ব্যবহার করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে পাখি শিকারের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি।
