খেলাধুলার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে খুদে ক্রীড়াবিদদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ছোট খেলোয়াড়রাই একদিন দেশের প্রতিনিধি হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পরিচিতি বাড়াবে। তাঁর ভাষায়, “তোমরা প্রত্যেকে বাংলাদেশের একেকজন অ্যাম্বাসেডর হয়ে উঠবে।”
শনিবার বিকেলে সিলেট নগরের রিকাবীবাজারে অবস্থিত জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমেই জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া খুদে ক্রীড়াবিদ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেমন বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূত দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন, তেমনি খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণরাও বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, আজকের শিক্ষার্থী ও ক্রীড়াবিদরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার মূল শক্তি। ভবিষ্যতে তাদের মধ্য থেকেই আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী এবং রাষ্ট্রনায়ক তৈরি হবে।
তিনি খুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “বাংলাদেশের দায়িত্ব এখন তোমাদের কাঁধে। তোমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি হবে—এমপি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, এমনকি রাষ্ট্রপতিও হবে তোমরাই।”
পড়াশোনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা থেকে কোনোভাবেই দূরে থাকা যাবে না। তবে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
সরকার সবসময় তরুণদের পাশে থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলাধুলা ও প্রতিভা বিকাশে সহায়তা অব্যাহত থাকবে। কেউ খেলোয়াড়, কেউ সংগীতশিল্পী বা অন্য কোনো পেশায় যেতে চাইলে তাকে সেই লক্ষ্যেই নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। তাহলেই গড়ে উঠবে শক্তিশালী বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে তিনি খুদে ক্রীড়াবিদদের ‘চিফ গেস্ট’ হিসেবে আখ্যা দেন এবং বলেন, “তোমরা যত ভালোভাবে নিজেদের গড়ে তুলবে, বাংলাদেশ ততই শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াবে।”
এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানান, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা খুঁজে বের করে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ক্রীড়াবিদ তৈরি করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিয়ে এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। ফুটবল, ক্রিকেট, অ্যাথলেটিকস, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, মার্শাল আর্ট, সাঁতার ও দাবাসহ মোট আটটি ইভেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
পরে প্রধানমন্ত্রী সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির কর্মিসভায় অংশ নেন। সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।
এর আগে সিলেট সদর উপজেলার বাসিয়া খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে মানুষের সমস্যা সমাধান করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব। কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা ঋণ, সার, বীজ ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন বলেও জানান তিনি।
তোমাদের বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে হবে, খুদে ক্রীড়াবিদদের বললেনতোমাদের বাংলাদেশের দায়িত্ব নিতে হবে, খুদে ক্রীড়াবিদদের বললেন প্রধানমন্ত্রী
