You are currently viewing চার ঘণ্টার বৈঠকে বিসিবি-পিসিবি-আইসিসি কী সিদ্ধান্তের পথে এগোল?

চার ঘণ্টার বৈঠকে বিসিবি-পিসিবি-আইসিসি কী সিদ্ধান্তের পথে এগোল?

আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ পিসিবি-বিসিবি-আইসিসির বৈঠক, তবে আলোচনা ছিল ইতিবাচক

কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ত্রিপাক্ষিক বৈঠক। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দীর্ঘ এই বৈঠকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

পাকিস্তানি গণমাধ্যমের দাবি, বৈঠকে বাংলাদেশকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। পাশাপাশি আইসিসিতে ভারতের একচেটিয়া প্রভাব কমানো এবং রেভেনিউ শেয়ারিংয়ে পাকিস্তানের অংশ বাড়ানোর দাবি তোলে পিসিবি।

মূলত সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট ক্রিকেটবিশ্বে সবারই জানা। নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিতে বাংলাদেশের ম্যাচ অন্যত্র সরানোর দাবি উপেক্ষা করে টাইগারদের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয় আইসিসি। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান সরকার। এতে বড় ধাক্কা খায় আইসিসি, কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে বিশ্বকাপে প্রায় ২৫০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সে কারণেই পাকিস্তানকে রাজি করাতে মরিয়া হয়ে ওঠে আইসিসি।

এই টানাপোড়েনের কেন্দ্রে থাকা বিসিবিকে বাদ দিয়ে আলোচনা সম্ভব নয়—এমন বাস্তবতায় পিসিবির আমন্ত্রণে রোববার পাকিস্তানের লাহোরে যান বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পিসিবির প্রধান নির্বাহী সালমান নাসির। পরে সন্ধ্যায় লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পিসিবির সদর দফতরে গিয়ে চেয়ারম্যান মহসিন নাগভির সঙ্গে বৈঠক করেন বুলবুল। সেখানে আইসিসির সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করা হয়। পিসিবির ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানান বিসিবি সভাপতি।

একই দিনে পাকিস্তানে পৌঁছায় আইসিসির প্রতিনিধি দলও। আইসিসির পক্ষে লাহোরে যান ডেপুটি চেয়ারম্যান ও সিঙ্গাপুর ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান ইমরান খোয়াজা। রাত ১০টায় শুরু হওয়া ত্রিপাক্ষিক বৈঠক চলে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা। যদিও বৈঠক শেষে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার বিস্তারিত জানায়নি।

তবে পাকিস্তানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশকে অন্যায়ভাবে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ায় আইসিসিকে দুঃখ প্রকাশ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ যেন শতভাগ পার্টিসিপেশন মানি পায় এবং কোনো আর্থিক ক্ষতির মুখে না পড়ে—সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের মতো বহুজাতিক টুর্নামেন্টের আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশকে বিবেচনায় রাখার প্রস্তাব উঠে আসে।

এদিকে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাগভি আইসিসিতে বিসিবির প্রভাব কমানোর দাবি তোলার পাশাপাশি, আইসিসির বাৎসরিক রাজস্ব বণ্টনে পাকিস্তানের অংশ বাড়ানোর বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করেন। এছাড়া ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় সিরিজ পুনরায় চালু করা, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ রাখা এবং মাঠে অসৌজন্যমূলক আচরণ—যেমন হাত না মেলানো—বন্ধের দাবিও আলোচনায় আসে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান সফরে দেশটির বসন্ত উৎসবে অংশ নেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। লাহোরে তাকে ঘুড়ি ওড়াতেও দেখা যায়। সফর শেষে রাতেই পাকিস্তান ত্যাগ করেন তিনি। বিমানবন্দরে তাকে বিদায় জানান পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাগভি।

Leave a Reply