You are currently viewing হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে

হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে

পিলখানার বিস্ফোরক আইনের মামলায় হাসিনা ও কয়েকজন হেভিওয়েট আওয়ামী নেতা আসামি হতে যাচ্ছেন

পিলখানায় ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আওয়ামী লীগ-এর একাধিক মন্ত্রী ও নেতাকর্মী আসামি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পিলখানা বিদ্রোহের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি, দাবি-দাওয়া আদায়ের নাম করে বাংলাদেশ রাইফেলস-এর কিছু সৈনিক বিদ্রোহ শুরু করেন। ওই ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। হত্যার মামলা শেষ হলেও, বিস্ফোরক আইনের মামলা ১৭ বছর ধরে বিচারাধীন রয়েছে।

চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা, ফজলে নূর তাপস, একাধিক এমপি ও মন্ত্রী এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নাম সাক্ষীদের জবানবন্দিতে উল্লেখ হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাদেরও আসামি করা যেতে পারে।

বিচার প্রক্রিয়া

বর্তমানে মামলাটি ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে, অস্থায়ী আদালত ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ড. মো. আলমগীরের আদালতে চলমান। ১,৩৪৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩০২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। বিস্ফোরক আইনের মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ৮২২ জন, যাদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন জামিনে আছেন।

পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলা শুরুতে চকবাজার থানায় দায়ের হয়, পরে নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর করা হয়। হত্যা মামলায় চার্জশিট ২০১০ সালে দাখিল হয় এবং ২০১১ সালে চার্জগঠন ও বিচার শুরু হয়।

হত্যা মামলার রায় ও আপিল

ঢাকার নিম্ন আদালত ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড দেয়। হাইকোর্ট ২০১৭ সালে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে, ৮ জনকে যাবজ্জীবন এবং ৪ জনকে খালাস দেয়। এছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস পান ২৮৩ জন। বর্তমানে হত্যা মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে আপিলাধীন।

আসামিপক্ষের দাবি

আসামি পক্ষের আইনজীবী ফয়সাল হোসাইন বলেন, মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি চাই। তিনি আরও জানান, এই মামলায় আসামিদের জামিন এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। পরবর্তী ধার্য তারিখে সকল আসামি আবার জামিনের জন্য আবেদন করবে

Leave a Reply