You are currently viewing ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চার সংসদীয় আসনে বিএনপিকে চাপে ফেলেছে ছয় বিদ্রোহী প্রার্থী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চার সংসদীয় আসনে বিএনপিকে চাপে ফেলেছে ছয় বিদ্রোহী প্রার্থী

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চার আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীতে চাপে বিএনপি, ছয় নেতাই বড় বাধা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এর মধ্যে বিএনপির দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থীও রয়েছেন। তবে চারটি আসনে এখনো বিএনপির ছয় নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে থাকায় দলটি বড় অস্বস্তিতে পড়েছে। দলের মনোনীত প্রার্থী ও শরিক দলের প্রার্থীদের জন্য এসব বিদ্রোহী প্রার্থীই প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয় আসনে বিএনপির দুজন, জামায়াতে ইসলামীর তিনজন, খেলাফত মজলিসের তিনজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দুজন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের একজন, গণফ্রন্টের একজন এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে সাতজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে নয়জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে ছয়জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে সাতজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে আটজন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

বিএনপির দলীয় প্রার্থীরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা সভাপতি খালেদ হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মুশফিকুর রহমান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে নবীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

চার আসনে ছয় বিদ্রোহী প্রার্থী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ কে এম কামরুজ্জামান এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি (বহিষ্কৃত) ইকবাল চৌধুরী বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক (বহিষ্কৃত) রুমিন ফারহানা এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি (বহিষ্কৃত) তরুণ দে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাঁদের দুজনকেই বিএনপি বহিষ্কার করেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন। তিনি ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি ও বিএনপি নেতা মো. সাইদুজ্জামান কামাল বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। এ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেকও বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন, তবে পরে দলীয় নির্দেশে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

দুই আসন ছেড়েছে বিএনপি

বিএনপি জেলার ছয় আসনের মধ্যে দুটি আসন শরিক দলকে ছেড়ে দিয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবীবকে সমর্থন দিয়েছে দলটি। তবে সেখানে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী শরিক দলের প্রার্থীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ায় প্রথমে বহিষ্কৃত হলেও পরে সাকির পক্ষে কাজ করতে রাজি হওয়ায় কয়েকজন নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে বহিষ্কার করা হবে।

Leave a Reply