যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বহাল রাখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল বিপণন ব্যবস্থা এবং তেল বিক্রি থেকে আসা অর্থের ব্যবহার এককভাবে নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালের’-এ দেওয়া এক পোস্টে জানান, ভেনেজুয়েলার তেল চুক্তি থেকে অর্জিত অর্থ কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রেই ব্যয় করা যাবে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে কৃষিপণ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং জ্বালানি খাতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিন ধাপের একটি বিশেষ পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছেন। পরিকল্পনার প্রথম ধাপে তেল বিক্রির আয়ের ওপর কঠোর মার্কিন নজরদারি প্রতিষ্ঠা করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য বিদেশি কোম্পানিকে ভেনেজুয়েলার বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে বন্দিদের মুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে দেশটিতে রাজনৈতিক পরিবর্তন বা তথাকথিত ‘উত্তরণ প্রক্রিয়া’ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। তিনি একে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলা নিয়ে ট্রাম্পের গোপন পরিকল্পনা সম্পর্কে সাধারণ মার্কিন জনগণের চেয়ে বড় তেল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীরা বেশি অবগত।
অন্যদিকে ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতিমালা ১৯৭০-এর দশকের আগের সেই ইজারা ব্যবস্থার স্মৃতি জাগিয়ে তোলে, যেখানে প্রাকৃতিক সম্পদের মালিকানা সংশ্লিষ্ট দেশের হাতে থাকলেও বিপণন ও লাভের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ করত পশ্চিমা কোম্পানিগুলো। একই সময়ে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলা সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজ জব্দ করেছে, যার একটি উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে থাকা রুশ পতাকাবাহী জাহাজ।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, একটি সার্বভৌম দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর এভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের পরিপন্থী। তাদের মতে, বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুদসমৃদ্ধ দেশটির সম্পদ দখলের উদ্দেশ্যে সামরিক চাপ বা শাসন পরিবর্তনের কৌশল কোনোভাবেই বৈধ হতে পারে না।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা মাদক পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আংশিক নৌ-অবরোধ ও জাহাজ জব্দের ঘটনাগুলো ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে একটি গুরুতর আন্তর্জাতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
