You are currently viewing ঋণসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে পুনরায় গতি পাবে আবাসন খাত

ঋণসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে পুনরায় গতি পাবে আবাসন খাত

ঋণসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে পুনরায় গতি ফিরেছে আবাসন খাতে

দেশের আবাসন খাতে ধীরে ধীরে মন্দাভাব কাটতে শুরু করেছে। ২০২৪ সালের পর থেকে এই খাতে নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ক্রেতারা ফ্ল্যাট কিনতে আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু মূল সমস্যা ছিল অর্থের সহজলভ্যতা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণসীমা বৃদ্ধি therefore একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এতে আবাসন খাতে নতুন গতি ফিরে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত কয়েক মাসে ফ্ল্যাট বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ক্রিডেন্স হাউজিং জানায়, গত ৩ মাসে বিক্রি প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাটের দাম বর্তমানে ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা, যেখানে আগে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যেত। এখন গ্রাহকরা ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের সুবিধা নিতে পারবেন। এটি বাজারে বিনিয়োগ ও ক্রেতার সাড়া বাড়াবে। বিশেষত ধানমন্ডি, গুলশান ও বারিধারা এলাকায় ফ্ল্যাটের চাহিদা বেড়েছে। ৬০ শতাংশ ক্রেতা ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করেন, তাই ঋণসীমা বৃদ্ধির ফলে তাদের অর্থনৈতিক চাপ কমে এবং ক্রয় ক্ষমতা বাড়ে।

তবে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের সীমা ও কিছু দুর্বল ব্যাংকের সীমিত সক্ষমতার কারণে সকল ক্রেতাই পুরো সুবিধা নিতে পারবেন না। সব ব্যাংকের ঋণসীমা ৪ কোটি করা হলে এবং সুদহার কমানো হলে আবাসন খাতে আরও কার্যক্রম বাড়তে পারে।

দেশে হাউজিং কোম্পানির সংখ্যা সীমিত। জমির মূল্য বৃদ্ধি এবং ক্রেতার আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ফ্ল্যাটের দামও বেড়ে গেছে। ঢাকা শহরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাত্র ১০-১২ শতাংশ মানুষ নিজের আবাসনভোগী, বাকি ৮০ শতাংশ এখনও আবাসনের সুযোগের বাইরে।

অতএব, ঢাকার সাভার, কেরানীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় পরিকল্পিতভাবে সড়ক, যোগাযোগ ও অন্যান্য সুবিধা গড়ে তুলতে হবে। এতে হাউজিং কোম্পানি নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে এবং আবাসনের দামও তুলনামূলকভাবে কম থাকবে। ফ্ল্যাটের দাম যদি ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার মধ্যে রাখা যায়, বিক্রি আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভালো থাকলে ক্রেতাদের আগ্রহ আরও বাড়বে।

জিল্লুল করিম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ক্রিডেন্স হাউজিং, বলেন, “ঋণসীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে আবাসন খাতে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বাজারে নতুন উদ্দীপনা ফিরছে এবং ক্রেতারা বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন।”

Leave a Reply