সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেছেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকট না থাকার দাবি করা হলেও দেশে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং চলছে। তাঁর বক্তব্য, ঘোষিতভাবে প্রতিদিন অন্তত ৬ ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে, আর অঘোষিত লোডশেডিংয়ের হিসাব আরও বেশি হতে পারে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট না থাকলে লোডশেডিং কেন হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের জেলা আমির সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন আল-ফালাহ মিলনায়তনে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
চাঁদাবাজির হার বিভিন্ন খাতে বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের চাপে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। জ্বালানি পরিস্থিতি ও বাড়তি চাঁদার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে খেটে খাওয়া মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও হেলথ কার্ড বিতরণে দলীয়করণের অভিযোগও করেন তিনি। এ ধরনের কর্মসূচি ঘিরে অনিয়ম ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগও তুলে ধরেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন করে গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করলেও ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ বাতিল প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, এতে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং ব্যাংকিং খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিচারকদের নিয়োগে দলীয় প্রভাব থাকলে বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং এ বিষয়ে জনগণের রায়কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শাসনব্যবস্থাকে গণতান্ত্রিক করতে প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে আনারও দাবি করেন।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম ও হামিদুর রহমান আযাদসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
