ঢাকার বড় সাতটি কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) অধ্যাদেশ দ্রুত জারির দাবিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট—সায়েন্স ল্যাব মোড় ও মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করেছেন সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর শিক্ষার্থীরা।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ থেকে মিছিল নিয়ে বের হন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাঁরা সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। একই সময় মিরপুরের টেকনিক্যাল মোড়েও অবরোধ শুরু হয়।
এই আন্দোলনে অংশ নেন ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচিতে তাঁরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ—জারি করো অধ্যাদেশ’ এবং ‘আমি কে তুমি কে, ডিসিইউ ডিসিইউ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফারুক হাসান বলেন, তাঁদের একমাত্র দাবি হলো—ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ অবিলম্বে জারি করতে হবে। তিনি জানান, আর কোনো সময়ক্ষেপণ তাঁরা মেনে নেবেন না।
অবরোধের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সাভার থেকে গুলিস্তানগামী মো. হানিফ সায়েন্স ল্যাব মোড়ে আটকে পড়েন। তিনি বলেন, একের পর এক সড়ক অবরোধে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ভোগান্তি লাঘবে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের অবরোধে মিরপুর সড়কসহ আশপাশের সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আজিমপুর থেকে গাবতলী পর্যন্ত এলাকায় দিনভর তীব্র যানজট দেখা দেয়। মিরপুর-১, ২ ও ১০ নম্বর এলাকাতেও যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক যাত্রী গাড়ি না পেয়ে হেঁটেই গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন।
এর আগের দিন বুধবারও একই দাবিতে সায়েন্স ল্যাব মোড়, টেকনিক্যাল মোড় ও পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। অল্প সময়ের জন্য মহাখালীতেও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া সহপাঠী হত্যার বিচার ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা ফার্মগেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। বুধবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন সময়ে অবরোধ চলায় ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির পরিমার্জিত অধ্যাদেশের খসড়া গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত অনুমোদন ও আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের জন্য এটি উপস্থাপন করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকেই সাত কলেজ নিয়ে জটিলতা শুরু হয়। সমস্যা সমাধানে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রথম খসড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হয়। সর্বশেষ পরিমার্জিত খসড়ায় কলেজগুলোর নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সংযুক্ত পদ্ধতিতে কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
