শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পে আত্মসাতের অভিযোগ: ৩১ কোটি টাকার সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত
সিলেটে শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প থেকে আত্মসাৎকৃত অর্থে অর্জিত বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি আদালতের আদেশে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে সিনিয়র স্পেশাল জজ, মহানগর দায়রা আদালত খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবালের নামে থাকা ৩১ কোটি ১০ লাখ ২৬ হাজার ৮৪২ টাকা মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ তথ্য বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সিআইডির পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সিআইডি জানায়, বাজেয়াপ্তকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে—
- মুগদা ও উত্তরার কাওলা এলাকায় ২৩.৫ কাঠা জমি,
- ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় ৩০৩.২ শতাংশ জমি,
- সিদ্ধেশ্বরী, মিরপুর, বনশ্রী, বাসাবো ও উত্তরার কাওলা এলাকায় ১৮টি ফ্ল্যাট,
- মুগদা, আফতাবনগর ও উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরে ৩৯২.৭৩২৩ অযুতাংশ জমির ১১টি শেয়ার,
- ২১টি মিনিবাস, ২টি হায়েস গাড়ি, এবং বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা ৩০ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫২ টাকা।
তদন্তে সিআইডি জানিয়েছে, খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের সাবেক হিসাব রক্ষক ও হিসাব বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৮ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেন। আত্মসাৎকৃত অর্থ ব্যবহার করে তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমি, ফ্ল্যাট, যানবাহন ও অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছিলেন।
শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সিআইডি মতিঝিল (ডিএমপি) থানায় মামলা দায়ের করে। মামলায় খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে আত্মসাৎকৃত অর্থ ব্যবহার করে সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলায় আদালত এসব সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন।
বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সিআইডি জানিয়েছে, অর্থপাচার ও আর্থিক অপরাধ দমন তাদের অগ্রাধিকার এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িত যে কাউকে আইনের আওতায় আনা হবে।
