You are currently viewing ৭ মাসে ৬ হত্যার অভিযোগ সম্রাটকে গ্রেফতার করল পুলিশ

৭ মাসে ৬ হত্যার অভিযোগ সম্রাটকে গ্রেফতার করল পুলিশ

সাভারের পরিত্যক্ত পৌরসভা কমিউনিটি সেন্টারকে ঘিরে সংঘটিত ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। ভবঘুরের ছদ্মবেশে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মশিউর রহমান খান সম্রাট (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এক সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে ভবনটির আশপাশে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করছিল। চলাফেরা ও সময়ের মিল পাওয়ায় নজরদারি জোরদার করা হয় এবং পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে সম্রাটকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তি কমিউনিটি সেন্টার থেকে উদ্ধার হওয়া সর্বশেষ দুই মরদেহসহ মোট ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম জানান, গত কয়েক মাসে সাভার এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি মরদেহ পাওয়া যায় সাভার মডেল মসজিদের সামনে। ঘটনার ধরন, আলামত ও সময়ের মিল বিশ্লেষণ করে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে একই ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার সম্রাট সাভারের ব্যাংক কলোনী এলাকার মৃত সালামের ছেলে। ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার পর থানায় মামলা করা হয়। পরে একই বছরের ১১ অক্টোবর একই ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি স্থানের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হয়। এরপর ১৯ ডিসেম্বর এবং সর্বশেষ ১৮ জানুয়ারি একই ভবনের ভেতর থেকে আরও কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক বৃদ্ধা নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা এই ধারাবাহিক ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, প্রতিটি ঘটনার পর সাভার মডেল থানা ও ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ যৌথভাবে তদন্ত চালায়। পৌরসভার সহযোগিতায় কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এসব ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমেই অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতার আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুর হলে হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য, অন্য কেউ জড়িত আছে কি না এবং অন্য এলাকায় এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।

তিনি বলেন, অভিযুক্তের দেওয়া ঠিকানায় অভিযান চালিয়েও স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মাফলার ও আগুন সংক্রান্ত একটি উপকরণ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সাভারের আলোচিত এই সিরিজ হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।

Leave a Reply