You are currently viewing নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে অগ্রণী ব্যাংক

নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে অগ্রণী ব্যাংক

অগ্রণী ব্যাংকে ৬৬ কোটি টাকার অনিয়ম: তদারকি ও ব্যবস্থাপনায় চরম ব্যর্থতা

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি অনলাইন ও অফলাইন প্রচারণায় ব্যাপক অনিয়ম দেখা গেছে। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তা রোধে অনেকটা ‘অপারগ’ ভূমিকা পালন করছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক বর্তমানে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংকের ইতিহাসে অন্যতম বড় আর্থিক অনিয়ম উদ্ঘাটিত হয়েছে। ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে দেখা গেছে, কর্মকর্তারা অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারে জড়িত, এবং এমডি আনোয়ারুল ইসলামের খেয়ালখুশিতেই ব্যাংক ‘ফ্রি স্টাইলে’ পরিচালিত হচ্ছে।

নীলফামারীর সৈয়দপুর শাখায় ৬৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের ঘটনা তদন্তে উঠে এসেছে। জাল ভাউচার, আরটিজিএস, চেক ক্লিয়ারিং, ইএফটি ও কৃত্রিম লেজার এন্ট্রির মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ জালিয়াতি করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত একাধিক ধাপে প্রায় ৬০ কোটি টাকা শাখা থেকে সরানো হয়েছে। সিনিয়র অফিসার আলিমুল আল রাজি তমাল ও জিএম স্বপন কুমার ধর মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত। শাখা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের আরও ১৩ জন কর্মকর্তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়মের জন্য তদারকির ঘাটতি, দৈনিক রিকনসিলিয়েশন না করা, কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যারে নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং হেড অফিস ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের কার্যকর নজরদারির ব্যর্থতা দায়ী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া এমডি আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি পছন্দের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি ও পদায়ন করেছেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান নীতিমালা উপেক্ষা করে ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগে বয়সসীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বয়স ৭৭ বছর ৯ মাস ২ দিন অবস্থায় নিয়োগ পেয়েছেন, যেখানে নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ বয়স ৭৫ বছর।

চেয়ারম্যান ও এমডি উভয়ই দাবি করেছেন, তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে টিআইবি বলছে, বড় অঙ্কের দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্বচ্ছ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Leave a Reply