থাইল্যান্ডের নাখোন রাচাসিমা প্রদেশে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় চলন্ত যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর একটি ক্রেন ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে বিবিসি নিউজ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় আরও ৭৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রেনের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যে ক্রেনটি দুর্ঘটনায় ভেঙে পড়ে, সেটি লাওস সীমান্ত থেকে ব্যাংকক পর্যন্ত নির্মাণাধীন একটি দ্রুতগতির রেলপথ প্রকল্পের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
প্রথমদিকে পুলিশের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ১২ জন নিহত হওয়ার তথ্য দেয়। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি বগিতে আগুন লাগার পর সেখানে অবস্থান করা আরও সাতজন যাত্রীর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নাখোন রাচাসিমা প্রদেশের পুলিশ সুপার থাচাপোন চিন্নাওয়ং বিবিসিকে জানান, নির্মাণকাজ চলাকালীন একটি ক্রেন ব্যাংককগামী চলন্ত ট্রেনটির ওপর ভেঙে পড়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়।
থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটিতে আনুমানিক ১৯৫ জন যাত্রী থাকার কথা ছিল, যদিও প্রকৃত যাত্রীসংখ্যা কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে থাইল্যান্ডের পরিবহনমন্ত্রী ফিপাত রাতচাকিতপ্রাকর্ন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রেললাইনটি মূলত থাইল্যান্ডের অর্থায়নে নির্মিত হলেও এতে চীনা প্রযুক্তি ও রোলিং স্টক ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। চীন এই রেলপথকে ইউনান প্রদেশের সঙ্গে থাইল্যান্ডের উপসাগরীয় অঞ্চল সংযুক্ত করার কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পটি লাভজনক হবে কি না—এ নিয়ে থাইল্যান্ডের মধ্যে সংশয় থাকায় রেললাইন নির্মাণে দেশটি তেমন তাড়াহুড়ো করছে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই প্রকল্পটি নানা বিলম্বের মুখে পড়েছে।
