
জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে অস্ট্রেলিয়ায় সংগীত সফরে যাওয়ার আগেই তাহসান ও রোজা আলাদা থাকতে শুরু করেন। সে সময় মেলবোর্ন থেকে তাহসান গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, গান থেকে বিরতি নেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে সীমিত করার সিদ্ধান্তের কথা। পরে তিনি নিজেই নিশ্চিত করেন, ওই সময়েরও বেশ আগে তাঁদের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এরপর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে আর কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

অন্যদিকে, রোজা বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাহসানের সঙ্গে তোলা ছবি ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করায় অনেকের মনে ধারণা ছিল, তাঁদের সম্পর্ক এখনো অটুট রয়েছে। তবে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁদের ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের পর দুজনের জীবনদর্শন ও প্রত্যাশার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা দেয়। তাহসান আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরিবিলি ও ব্যক্তিগত জীবন বেছে নিতে চেয়েছিলেন। সে লক্ষ্যেই তিনি বিনোদন অঙ্গন থেকে নিজেকে আড়ালে রাখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষ্ক্রিয় করা এবং পারিবারিক জীবনে মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

অপরদিকে, বিয়ের পর রোজার পরিচিতি ও সামাজিক পরিসর দ্রুত বিস্তৃত হয়। নতুন এই পরিচিত জীবনধারাকে তিনি উপভোগ করছিলেন বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। ভিন্ন মানসিকতা, জীবনযাপনের ধরন এবং প্রত্যাশার এই ব্যবধান ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে বলে ঘনিষ্ঠদের ধারণা।
ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, শুরুতে সম্পর্কের এই দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন দুজনই। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত কাউকে দায়ী না করে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রেখেই আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছান তাহসান ও রোজা। জানা গেছে, গত বছরের শেষের দিকেই তাঁদের বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
তাহসানের এটি দ্বিতীয় বিয়ে। আগের সংসারে তাঁর একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার সঙ্গে তিনি নিয়মিত সময় কাটান। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তাহসান বরাবরই সংযত। বর্তমান পরিস্থিতিতেও তিনি নীরবতাকেই বেছে নিয়েছেন।
ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন, বিচ্ছেদ হলেও দুজনই বিষয়টি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সামলেছেন। সম্পর্ক জোড়া লাগার সম্ভাবনা নেই বলেই জানা গেছে। তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়—বরং জীবন ও সম্পর্কের বাস্তবতায় ভিন্ন পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন তাঁরা।
