‘খেলার মাঠে রাজনীতি নয়’—এই অভিযোগ তুলে ২০২৬ আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
বুধবার ইসলামাবাদে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার। তাঁর ভাষায়, “আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। কারণ, খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক থাকা উচিত নয়।”
বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, “ভেবেচিন্তেই আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। আমার মতে, এটি সময়োপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্ত।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের নিরাপত্তা–সংক্রান্ত উদ্বেগকে উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) দলটিকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়। এরপরই পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয়। যদিও সিদ্ধান্তটি আগেই জানানো হয়েছিল, তবে এর পেছনের যুক্তি এবারই প্রথম প্রকাশ্যে আনল পাকিস্তান সরকার।
এর আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আইসিসির ‘দ্বিমুখী নীতি’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
২০২৬ আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হওয়ার কথা। সূচি অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নির্ধারিত ছিল। তবে গত রোববার পাকিস্তান সরকারের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডল থেকে জানানো হয়, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান।
এ বিষয়ে পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও আইসিসি এক বিবৃতিতে পাকিস্তানকে সিদ্ধান্তের ‘দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব’ বিবেচনা করে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়।
প্রসঙ্গত, ভারতের সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদীদের হুমকির মুখে গত ৩ জানুয়ারি মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর বিশ্বকাপের জন্য ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার এবং ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায় আইসিসিকে। তবে আইসিসি ঘটনাটিকে ‘বিচ্ছিন্ন ও অপ্রাসঙ্গিক’ বলে দাবি করে বাংলাদেশের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, আইসিসি ও ভারত সরকার—কেউই বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে।
অতীতে ভারত ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা উপেক্ষিত হয়েছে—এই প্রশ্ন তুলে পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি আইসিসির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতি স্পষ্ট অবিচার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আইসিসির বোর্ড সভায় ভেন্যু পরিবর্তনের ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের পক্ষেই ভোট দিয়েছিলেন তিনি।
