ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহের বিল ১০০ টাকার বেশি নিলে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার (৪ মার্চ) লালবাগের শহিদনগর শ্মশানঘাটে মশক নিধন ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।
মশার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির কারণে ডিএসসিসি মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও ক্রাশ প্রোগ্রামের আয়োজন করেছে। এর অংশ হিসেবে ২৪ নং ওয়ার্ডে বিকেল ৩টা থেকে অভিযান শুরু হয়। এ অভিযানে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রায় ২০০ জন কর্মী খাল, ড্রেন, নর্দমা ও ফুটপাত পরিষ্কার করেন এবং মশার ওষুধ প্রয়োগ করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে জনসচেতনতামূলক র্যালিও অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশাসক আরও ঘোষণা করেন, কবরস্থানে লাশ দাফন ও শ্মশানে লাশ দাহ্য বাবদ নিবন্ধন ফি ১০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করা হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনার অংশ।
তিনি বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। প্রশাসক বলেন, “ঢাকা শহর বাংলাদেশের মুখ, তাই শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উপর জোর দিয়েছেন।”
পুরান ঢাকাকে আদি ঢাকার সঙ্গে তুলনা করে প্রশাসক বলেন, “দক্ষিণ সিটিতে পুরান ঢাকাকে সর্বোচ্চ উন্নত করতে চাই। রাস্তার লাইট ঠিকভাবে জ্বলে, বর্জ্য নিয়মিত পরিষ্কার হয় এবং মশা নিয়ন্ত্রণে থাকে—এটাই আমাদের লক্ষ্য।”
ডিএসিসি প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস এবং অন্যান্য বিভাগীয় কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসক এও উল্লেখ করেন, ১৭ বছর ধরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে দায়িত্ব নেওয়া হবে। যেমন জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ভাতা দেওয়া হয়েছে, তেমনি ব্যবসা হারানো, ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা পঙ্গু হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
