You are currently viewing পদ্মায় বাসডুবিতে নিহত ২৪, ঘটনার তদন্তে কমিটি

পদ্মায় বাসডুবিতে নিহত ২৪, ঘটনার তদন্তে কমিটি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে যাত্রীবাহী বাসডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি তিনজনের মরদেহ, যার মধ্যে বাসচালকও রয়েছেন, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও বেশ কয়েকজন শিশু রয়েছে। তারা রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া, গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর, ঢাকা ও ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা।

গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে এসেছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘাটে ওঠার সময় বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছেন বাসযাত্রী ও কাউন্টার মাস্টাররা। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজন, নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

রাতভর ও বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। ডুবুরি দল নদীর তলদেশে তল্লাশি চালিয়ে একে একে মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। অনেকেই নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে হাসপাতাল ও ঘাট এলাকায় ভিড় করেন।

এদিকে বাস দুর্ঘটনার পর রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রতিনিধি এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে রয়েছেন। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Leave a Reply