অগ্রকণ্ঠ ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | সময়: ৭:৩০ PM
ঢাকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ছয় দিন বাকি। নির্বাচনী মাঠ যখন শেষ মুহূর্তের উত্তেজনায় টানটান, তখনই জনমনে আলোচনার কেন্দ্রে অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকারের ভূমিকা ও মূল্যায়ন। দায়িত্ব ছাড়ার প্রাক্কালে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন— ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই সরকারকে কি মিস করবে বাংলাদেশের জনগণ?
দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই ইউনুস সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্রশাসনে নিরপেক্ষতা, রাজনৈতিক সহিংসতা কমানো এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করার। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় থাকা দেশের জন্য এই প্রতিশ্রুতি স্বস্তির বার্তা হিসেবেই দেখেছিলেন অনেকে।
প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে বদলি ও পুনর্বিন্যাস, মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয়তা এবং প্রকাশ্য রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর চেষ্টা—এসব পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন নাগরিকদের একাংশ। রাজধানী ও বড় শহরগুলোতে রাজনৈতিক সংঘাত তুলনামূলক কম থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতিও দেখা গেছে।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, “রাজনৈতিক টানাপোড়েন কম থাকায় অন্তত ব্যবসার পরিবেশটা কিছুটা স্বাভাবিক ছিল।”
নির্বাচন প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক আস্থা
ইউনুস সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব ছিল একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ সুগম করা। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয়, পর্যবেক্ষক আমন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার—এসব উদ্যোগকে সরকারের বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইউনুস সরকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
অর্থনীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে অসন্তোষ
তবে অর্থনৈতিক ইস্যুতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক নাগরিক।
চট্টগ্রামের এক গৃহিণী বলেন, “সরকার বদলালেও বাজারের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমাদের কষ্ট আগের মতোই আছে।”
কর্মসংস্থান ও তরুণদের ভাবনা
তরুণ সমাজের একাংশ মনে করছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়সীমা সীমিত হলেও কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আরও স্পষ্ট বার্তা আসতে পারত। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারদের জন্য কার্যকর উদ্যোগের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
জনমত বিভক্ত, মূল্যায়নও ভিন্ন
ইউনুস সরকারকে নিয়ে জনমত স্পষ্টভাবেই বিভক্ত। কেউ এটিকে শান্তিপূর্ণ একটি ট্রানজিশনাল সরকার হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন—এটি ছিল প্রয়োজনীয় হলেও অসম্পূর্ণ একটি অধ্যায়।
তবে উভয় পক্ষই একমত যে, রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও দেশকে একটি নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে তুলনামূলক শান্ত পরিবেশে পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই সরকারের মূল সাফল্য।
ইতিহাসে কীভাবে দেখা হবে ইউনুস সরকারকে?
বিশ্লেষকদের মতে, ইউনুস সরকারকে ভালো বা খারাপের সরল মাপকাঠিতে বিচার না করে একটি অন্তর্বর্তী ও রূপান্তরকালীন সরকার হিসেবেই ইতিহাসে মূল্যায়ন করা হবে। এর সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা—দুটিই ভবিষ্যৎ আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ইউনুস সরকারের এই সময়কাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই থেকে যাবে।
