You are currently viewing বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নাহিদ ইসলামের বাসায়

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নাহিদ ইসলামের বাসায়

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতীয় নাগরিক পার্টির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম–এর বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক মতভিন্নতা সত্ত্বেও সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান ও দেশের জন্য যৌথ কাজের সুযোগ তৈরি করা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার দুই দিন পর, রোববার রাত সাড়ে আটটায় রাজধানীর বেইলি রোডে নাহিদ ইসলামের বাসায় পৌঁছান তারেক রহমান। সাক্ষাতের সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানও উপস্থিত ছিলেন।

নাহিদ ইসলামের বাসার ড্রয়িং রুমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা, এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত আখতার হোসেন এবং দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতের শুরুতে নাহিদ ইসলাম তারেক রহমানকে ফুলের তোড়া ও শহীদ আনাসের ফ্রেমে বাঁধা মর্মস্পর্শী চিঠি উপহার দেন। এছাড়া, এনসিপির দলীয় প্রতীক শাপলা কলির স্টিলের তৈরি প্রতিকৃতিও বিএনপির চেয়ারম্যানকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।

দুই নেতা দীর্ঘসময় ধরে আলোচনা করেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে। এর মধ্যে ছিল—

  • দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং সংলাপের মধ্য দিয়ে সমস্যা সমাধান
  • নির্বাচনের পর সহিংসতা এবং সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন
  • জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ও শহীদ ও গাজীদের পরিবারের পুনর্বাসন
  • কৃষি, শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্যসহ নীতি–সংলাপের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক শক্ত করা
  • ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সহযোগিতা এবং সরকারের ফাংশনিং

আখতার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আজকের সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মতভিন্নতা সত্ত্বেও দেশের জন্য যৌথ কাজের নতুন দিক উন্মোচন করেছে। সংলাপের মাধ্যমে দেশের সংকট সমাধান ও নীতি-নির্ধারণে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে। বিএনপি ও এনসিপি এই সংলাপের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণে আগ্রহী।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “নির্বাচন–পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাৎ রাজনৈতিক প্রশ্ন বা মন্ত্রিসভায় যোগদানের বিষয়ে হয়নি। এটি মূলত নির্বাচন–পরবর্তী জয়ী ও বিরোধী দলের মধ্যে সম্পর্কের সূচনা এবং ভবিষ্যতে যৌথ আলোচনার ভিত্তি তৈরির জন্য করা হয়েছে। নির্বাচনে জয়ী ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দেশের জন্য যৌথ পরিকল্পনা নির্ধারণের পদক্ষেপ হিসেবে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।”

সাক্ষাতের শেষপর্যায়ে রাত সোয়া নয়টার দিকে তারেক রহমান বাসা থেকে বের হন। সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তিনি কারও সঙ্গে কথা বলেননি। সাক্ষাতের পর আখতার হোসেন বলেন, “বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে, ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে যে কোনো রাজনৈতিক দল, যারা দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চায়—তাদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক। তবে সংলাপের মাধ্যমে একত্রে বসে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব, এবং আজকের সাক্ষাৎ তারই প্রমাণ।”

Leave a Reply