ঢাকা–২ সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এবং অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সংগঠন রাওয়ার সভাপতি কর্নেল (অব.) আবদুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শনিবার ঢাকার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান। তবে একই আসনে বিএনপির প্রার্থী আমানউল্লাহ আমানসহ অপর এক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়ন যাচাই–বাছাই সভায় রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল হককে জানান, ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) প্রতিবেদনে তিনি একটি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে চিহ্নিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত ঋণখেলাপি হওয়া সত্ত্বেও তিনি সিআইবি প্রতিবেদন হালনাগাদ করেননি। এ অবস্থায় তাঁর মনোনয়ন গ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তবে তিনি চাইলে আপিল করতে পারবেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, আবদুল হক আয়কর রিটার্নের কপি জমা দেননি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংযুক্ত করেননি এবং প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্যও প্রদান করেননি।
মনোনয়ন বাতিলের বিষয়ে আবদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ২০১২ ও ২০১৩ সালে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে অনিয়মের কারণে তিনি সেখান থেকে পদত্যাগ করেন এবং সেই পদত্যাগপত্র তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। বর্তমানে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নন বলেও দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি পারিবারিক হওয়ায় তার নামে কেউ ঋণ নিয়ে থাকতে পারে, তবে এর সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
ঢাকা–২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ২১৫ জন। এই আসনে তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন—বিএনপির প্রার্থী আমানউল্লাহ আমান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত কর্নেল (অব.) আবদুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম। যাচাই–বাছাই শেষে আবদুল হক ছাড়া বাকি দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
