২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রথম সংসদ নির্বাচনের মুখে জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশ নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। দলটি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়বে বলে আশাবাদী।
জুলাই আন্দোলন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
জুলাই আন্দোলনের পর জামায়াত বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে উঠে এসেছে। দলটি সেই সময় সহিংসতা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বাইরে থেকে সমালোচনার থেকে দূরে ছিল। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মানবিক কার্যক্রমে এগিয়ে আসায় দলের ভাবমর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
নারী ও সংখ্যালঘু অংশগ্রহণ:
এবারের নির্বাচনে নারীদের ভোট চাইতে জামায়াত ব্যাপক অংশগ্রহণ বাড়িয়েছে। প্রতিটি এলাকায় নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি ভোট চাচ্ছেন, যা দেশে-বিদেশে সাড়া ফেলেছে। এছাড়া প্রথমবারের মতো সংখ্যালঘু হিন্দু প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও পলিসি সামিট:
জামায়াত এবার প্রথমবার উচ্চস্তরের ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক ও পলিসি সামিট করেছে। এতে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, নারী ও যুবকদের কর্মসংস্থান বিষয়ে পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
ইশতেহার ও নির্বাচনী প্রচারণা:
জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহারে ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনা, কল্যাণকামী নীতি ও ন্যায্য প্রশাসনের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তরুণ ভোটারদের কাছে দ্রুত প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে।
আমির ডা: শফিকুর রহমানের নেতৃত্ব:
দীর্ঘদিন প্রান্তিক অবস্থানে থাকা ডা: শফিকুর রহমান এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত। তার সরলতা, শৃঙ্খলা ও ইসলামপন্থী নৈতিক বিকল্পের চিত্র ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
দলীয় জোট ও যুবসমর্থন:
জামায়াত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সহ ১১ দলীয় জোট গঠন করেছে, যা তরুণ ও অপেক্ষাকৃত কম রক্ষণশীল ভোটারদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, নির্বাচনী জনসভায় ব্যাপক অংশগ্রহণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং মানুষ দুর্নীতিবাজ-চাঁদাবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে।
